fbpx
29.1 C
Barisāl
Thursday, September 23, 2021

আগৈলঝাড়ায় দুঃস্থ মানবতার হাসপাতালে প্রসুতির ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় দুঃস্থ মানবতার হাসপাতালে এক প্রসুতির ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনেরা। ভুল রক্তের গ্রুপ শরীরে দিলেও অল্পের জন্য মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন এক প্রসুতি। রক্তের গ্রুপ ভুল নির্নয় ও ভুয়া রিপোর্ট দেয় ওই হাসপাতালের কথিত চিকিৎসক। হাতিয়ে নেয় হাজার হাজার টাকা।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের হানিফ খলিফার স্ত্রী শারমিন বেগম (২৫) প্রসব বেদনা নিয়ে ৫ জানুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের বাইপাস মোড়ের ফুল্লশ্রী এলাকায় বেসরকারি দুঃস্থ মানবতার হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের কথিত চিকিৎসক মো. আশ্রাফুল ইসলাম শাওন (ডিএমএফ) তাকে ১০৫/১০৫নং আইডিতে ভর্তি করিয়ে ওই রাতেই সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য রোগীর স্বজনদের বলেন। কথিত ডাক্তার সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ১১ হাজার টাকা দাবি করে। ওই রাতেই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শারমিন পুত্র সন্তানের মা হন। তাকে নেয়া হয় হাসপাতালের ৬নং বেডে।
গত ৯ জানুয়ারী রোগীর রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় রক্তের গ্রুপ নির্নয় করে ওই হাসপাতালের প্যাথলজিতে টেকনোলজিষ্ট নয়ন হালদার রোগীর রক্তের গ্রুপ এ(+) এবং একই সাথে রোগীর কোন পরীক্ষা ছাড়াই ওই টেকনোলজিষ্ট এইচআইভি (নেগেটিভ) রিপোর্ট দেয়। পরীক্ষার জন্য নেয় অতিরিক্ত টাকা। রোগীর শরীরে এ(+)রক্ত পুস করলে অসুস্থ হয়ে পরে। রোগীর স্বজনেরা রোগীকে পাশ্ববর্তি গৌরনদীর সিকদার ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে ওই টেকনোলজিষ্ট বিশ্বজিত গাইন পরীক্ষা করে রোগীর রক্তের গ্রুপ বি(+)বলে রিপোর্ট দেয়। ভুল রক্ত রোগীর শরীরে ঢোকার কারনে রোগী অসুস্থ হয়ে পরে। এই নিয়ে দুঃস্থ মানবতার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে রোগীর স্বজনদের বাক বিতন্ডা হয়।
এব্যাপারে দুঃস্থ মানবতার হাসপাতালের পরিচালক সাবেক স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. হিরন্ময় হালদার (অবঃ) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিষটি দুঃখ জনক। দুঃস্থ মানবতার হাসপাতালে এইচআইভি পরীক্ষা হয় না। আশ্রাফুল ইসলাম শাওন কোন ডাক্তার না, সে রোগী ভর্তি বা অপারেসন করতে পারে না।
এব্যাপারে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, রোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে ভুল রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসার কারণে আর কোন রোগীর ক্ষতি না হয় এজন্য হাসপাতাল পরিদর্শন করা হবে। প্রমাণ পেলে লাইসেন্স বাতিল এবং প্রয়োজনে হাসপাতালটি সীলগালা করে দেয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ