fbpx
26.1 C
Barisāl
Tuesday, September 28, 2021

আগৈলঝাড়ায় শৈত্যপ্রবাহে পান চাষীদের ক্ষতি

তীব্র শীত, কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে বরিশালের আগৈলঝাড়াতে পানচাষী এবং ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পরেছে। ঠান্ডাজনিত কারণে পান গাছে দাগ, শিকড় পচা ও পাতাঝরাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে পানের বাজারে ধস নেমেছে। কমেছে দাম। গত এক সপ্তাহের মধ্যেই পানচাষী এবং এ অ লের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অনেক লোক পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

গত এক বছর থেকে বাজারে পানের দাম বেশি। কিন্তু আকস্মিক শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতায় হলদে দাগ দেখা দিয়েছে। পচে যাচ্ছে পান পাতা। এক পোয়া (৩২ বিড়াই এক পোয়া এবং ৬৪ পানে এক বিড়া) বড় পানের দাম তিন হাজার থেকে নেমে আটশ’ টাকা, মধ্যম পান প্রতি পোয়া এক হাজার ছয়শ’ থেকে নেমে পাঁচশ’ এবং ছোট পান প্রতি পোয়া পাঁচশ’ থেকে নেমে তিনশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন মোকামে কম দামে পান কিনেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তারা বলছেন, পানের পাতায় কালো দাগ থাকায় এবং পচে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মোকামে আরও কম দামে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পান পরিবহন এবং বিক্রিতে দু’দিন সময় লাগে।

আর এ সময়ের মধ্যে পান পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এ অ লের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে পানির দামে পান বিক্রি করছেন। শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে প্রচন্ড ঠান্ডায় পানের পাতার ওপর কালো দাগ পড়া ও পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহকৃত পান নামে মাত্র টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। একই ধরনের কথা বলেন, পান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম খান, রুবেল খান, আনিচ তালুকদার, স্বপন গাজী বলেন, শীত, ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতা লালসে হয়ে ঝড়ে পরে। বরজ থেকে যখন পরা পান সংগ্রহ করতে গেলে অন্য পানও ঝড়ে যায়। এসব পান বাজারজাত করার জন্য পান গাদি করার সময় দেখা যাচ্ছে পাতায় কালো দাগ। আবার পচা পাতাও পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পানের বাজারে ধস নেমেছে। একবিঘা বরজ করতে খরচ হয় ছয় লাখ টাকা। এবার লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয় উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস থেকে চাষীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পানবরজ বর্তমানে যে সব রোগবালাইয়ে সক্রামিত হয়েছে সে ব্যাপারে প্রতিনিয়ত চাষীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে এ ধরনের রোগবালাই হচ্ছে। পানবরজের পরিচর্যা করলে এবং শীত কমে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ