fbpx
31.7 C
Barisāl
Tuesday, April 20, 2021

বরিশালে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার, কারাগারে ৪৫২ জেলে

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না; মা ইলিশ শিকার। প্রতিদিনই পরিচালিত হচ্ছে অভিযান। আটক করা হচ্ছে জেলেদের, দেয়া হচ্ছে জেল জরিমানা। তা সত্বেও কেন মা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত জেলেরা? এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া দায়।

২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ ঘোষাণা করে সরকার। আর এ লক্ষ্যে জেলেদের মধ্যে ২০ কেজি করে চালও বিতরণ করা হয়েছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলায় মোট জেলের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারে যুক্ত ৪৩ হাজার ৬৪৭ জন। মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের প্রত্যেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। পদ্মা-মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে মা ইলিশ নিধন চলছে। মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের গাফলতির কারণে জেলেরা মা ইলিশ নিধনের সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনের বেলায় অভিযান অব্যহত থাকলেও রাতের আধারে ইলিশ শিকার করছে জেলেরা।

১ অক্টোবর শুরু হয়েছে অভিযান, চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। ইতোমধ্যে মৎস্য অফিস ও নৌ-পুলিশের অভিযানে বরিশাল বিভাগে ১৯ দিনের অভিযানে কারাদণ্ড হয়েছে ৪৫২ জেলের, জরিমানা হয়েছে সাড়ে ১০ লাখ টাকা, জব্দ হয়েছে বিপুল পরিমান অবৈধ জাল ও ইলিশ।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আজিজুল হক জানিয়েছেন, ২২ দিনের নিষেধ অমান্য করে ইলিশ মাছ শিকার প্রতিরোধে জেলেদের বিরুদ্ধে বিভাগের বিভিন্ন নদীতে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ১৯ দিনে এক হাজার ৭১৬টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এরমধ্যে মোবাইল কোট বসেছে ৮০৯টি। মামলা হয় ৫০৬টি। জেল হয়েছে ৪৫২ জেলের। জরিমানা হয় ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা। জব্দ করা হয়েছে ৩৩ দশমিক ২৬ লাখ মিটার অবৈধ জাল এবং ৮ দশমিক ৭৬ মেট্রিকটন ইলিশ মাছ। জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিলিয়ে দেয়া হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ইলিশ শিকারে নামে জেলেরা। যেখানে ইলিশ শিকার বন্ধ সেখানে বাজারে সহজেই মিলছে ইলিশ। ট্রাকে ভর্তি করে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। কঠোর আইনী ব্যবস্থা না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। মা ইলিশ ও জাটকা ধরা বন্ধ করতে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ