fbpx
37.6 C
Barisāl
Wednesday, April 21, 2021

পাউবো-বন বিভাগের রশি টানাটানি। আগৈলঝাড়া কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ উজার হচ্ছে বনায়ন থেকে। সাত বছরে মাত্র ১৫টি মামলা। উপকারভোগীরা বি ত। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

নিউজ ডেস্ক: আগৈলঝাড়ায় উপজেলার সরকারী রাস্তায় বনায়নকৃত বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ হর হামেশাই চুরি করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে উজার হয়ে যাচ্ছে এলাকার বনভুমি। প্রভাব পরছে জীব বৈচিত্রের ভারসাম্যর উপর। চুরি হওয়া গাছ কাটার তুলনায় বন বিভাগের উদাসীনতা ও চোরের সাথে আপোষ রক্ষার কারণে সাত বছরে মামলা হয়েছে মাত্র ১৫টি। ফলে বনায়নের সাথে সুফল ভোগিরা অর্থনৈতিকভাবে বি ত হচ্ছেন অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
সংশ্লিষ্ট অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ওয়াপদা বেরী বাধ, এলজিইডি’র রাস্তা ও গ্রামীন জনপদের রাস্তার দু’পাশে সরকারের সামাজিক বনায়ন, সৃজিত বাগান, উপকুলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পসহ বিভিন্ন এনজিও সাথে যৌথভাবে লাগানো ২১টি বাগান রয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ১শ ১৭ কি.মিটার। এসকল বাগানের সুফল ভোগীর সংখ্যা রয়েছে ১৮ হাজার ৫৭ জন। ১৯৯০ সালে এলাকায় প্রথম শুরু হয় সৃজিত বাগানের কাজ। ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে উপকুলীয় সবুজ বেস্টনী প্রকল্প ও ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় বনায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও’র সম্পৃক্ততায় রোপন করা হয় বিভিন্ন এলাকার প্রধান রাস্তায় বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ। ২০০৯ সালে উপজেলা বনায়ন অফিসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে গাছ চোরেরাও বসে নেই। ১৯৯১সালে সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখে ৫১টি গাছ কাটার ঘটনায় উপজেলা বনায়ন কর্মকর্তা এবিএম ফেরদৌস চাঁদত্রিশিরা গ্রামের প্রভাবশালী কালাম ভাট্রি, সারোয়ার ও জালানুর ভাট্রিকে আসামী করে ১৯৭২ সনের বন আইন সংশোধিত ২০০ সনের ৩৩ (১)(ছ) ধারায় প্রথম মামলাটি করেন। ওই বছর মোট মামলা করা হয় ৪টি। আর তাতে আসামী করা হয় ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামাদের। ৫১টি গাছ জব্দের মাধ্যমে ১শ ৫২.৭৫ ঘন ফুট গাছ ও ৪০ মন লাকড়ি জব্দ করা হয়। অপর ঘটনার স্থানগুলো ছিল ধরাধর দিঘি থেকে বরিয়ালি সড়ক, রাজিহার ফকির বাড়ি রোডের ত্রিমুখ থেকে কাটা ১২০ ফুটের মুল বট গাছের কান্ডজব্দ করা হয়। ২০১০-২০১১ সালে কাজিরহাট ¯ুইজ গেঠ থেকে নুরু গোমস্তার বাড়ির সড়ক, রতœপুর আলাউদ্দিন তালুকদারের পুল থেকে ছয়গ্রাম আতিয়ারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, উজিরপুরের ধামুরা সীমানা থেকে বেলুহার রাস্তা পর্যন্ত গাছ কাটার ঘটনায একটি জিআর মামলাসহ চারটি মামলায় আসামী করা হয় ১৯ জনকে। জব্দ তালিকায় এবছর কোন কোন গাছ দেখা যায়নি। ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে রতœপুর এলাকা, বড়মগড়া থেকে পয়সা হয়ে এনজিও তরঙ্গ রাস্তা, ধরাধর দিঘি থেকে বরিয়ালি মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের চুরি যাওয়া গাছের জন্য তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে দুইটি মামলার আসামী অজ্ঞাত থাকলেও অপর মমলাটিতে নান্না শরীফ, জলীল শরীফ, অরুন ভূইয়া, সোহাগ ভূইয়া, জালাল ভূইয়া, রনী মীর, সাহাবুদ্দিন ভূইয়াসহ ১২ জনকে আসামী করে মামলা করেন তৎকালীন বনায়ন কর্মকর্তা এবিএম ফেরদৌস। এসব স্থান থেকে প্রায় ৮১ ঘন ফুট কাঠ ও মাত্র ৩ মন লাকড়ির কাঠ জব্দ দেখানো হয়। ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে উলেখযোগ্য পরিমান গাছ চুরির ঘটনা ঘটলেও ওই বছর রেকর্ড পত্রে কোন মামলার দেখা যায়নি। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে কাজীরহাট ¯ুইজ গেট থেকে নুরু গোমস্তার বাড়ি পর্যন্ত কাটা গাছের ১৬.৫২ ঘন ফুট গাছ উদ্ধার, আমবৌলা আবুল হোসেনের বাড়ি থেকে বাগধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাটা গাছের অংশ বিশেষ ১০.২৭ ঘন ফুট, ধরাধর দিঘি থেকে বড়িয়ালি মাদ্রাসা পর্যন্ত কাটা গাছের প্রায় ৮ ঘন ফুট গাছ উদ্ধার করা দেখানো হয়। এঘটনায় মামলা করা হয় তিনটি। একটি মামলায় তিন জন আসামী করা হলেও অপর মামলাগুলো করা হয় অজ্ঞাত আসামী দিয়ে। বাকাল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা রাজাপুর থেকে কোটালীপাড়া সীমানা পর্যন্ত রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলাটি করা হয়। কোন কোন ঘটনায় চাপের মুখে মামলা করতে হলেও আসামী রাখেন অজ্ঞাত। আবার পানি উন্নয়ন বোর্ডে রাস্তায় গাছ চুরির ঘটনা ঘটলেও সংশিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ ও বনায়ন কর্মকর্তার রশি টানাটানিতে মামলাতো হয়ইনা বরং একে অন্যের ঘারে দোষ চাপিয়ে পার পাওয়ার চেস্টা চালান। স্থানীয়ভাবে গাছ কাটার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ জব্দ করলেও সংশিষ্ঠ দুই দপ্তরের রশি টানাটানিতে কোন মামলা না দেয়ায় সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে গাছ চোর চক্ররা। এতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে চোর চক্র। এ ব্যাপারে উপজেলা বনায়ন কর্মকর্তা স্বপন অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলার বনবিভাগের গাছ কাটা কয়টি মামলা রয়েছে তা আমার জানা নেই। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জেনে বলা যাবে। মামলা সব কয়টি আদালতে রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ